• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

তারাগঞ্জে পাওনা টাকা আদায়ে কবর থেকে লাশ তোলার চেষ্টা

সিসি নিউজ।। রংপুরের তারাগঞ্জে কবর খুঁড়ে এক নারীর লাশ তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের খিয়ারজুম্মা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে এক নারীকে আটক করেছে।

পুলিশ, নিহত নারীর পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল গফুর অসুস্থ থাকায় স্ত্রী শাহেদা বেগম (৫১) দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তিনি সরকারের কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক ছিলেন। শাহেদা বেগম ঈদের দুই দিন আগে স্ট্রোক করেন। গত বুধবার তিনি মারা গেলে খিয়ারজুম্মা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এদিকে শাহেদার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাবেন দাবি করে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাঁর বাড়িতে যান একই গ্রামের জোনায়েদ হোসেনের স্ত্রী রাসেনা বেগম। শাহেদার ছেলেমেয়েরা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় শাহেদার কবর খুঁড়তে যান রাসেনা ও তাঁর স্বামী জোনায়েদ হোসেন। কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান একই এলাকার আব্দুল কাইয়ুম ও রেহেনা বেগম। এ দৃশ্য দেখে তাঁরা চিৎকার দিলে রাসেনা বেগম ও তাঁর স্বামী পালিয়ে যান। খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের লোকজন কবরস্থানে ছুটে যায়। পরে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ গিয়ে রাসেনাকে আটক করে।

নিহত শাহেদার মেয়ে সাবিনা বেগম অভিযোগ করেন, ‘রাসেনা মায়ের কাছে টাকা পাবেন দাবি করে সকালে আমাদের বাড়ি আসেন। কখনো ৩০ হাজার, কখনো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পান বলে দাবি করেন। আমাদের থাকার জায়গা ছাড়া কোনো সহায় সম্বল নেই। রাসেনা যে টাকা দাবি করছেন তা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। মা কখনো তাঁর কাছে রাসেনা টাকা পাবেন এমন বলেননি। তাই রাসেনাকে বলি, টাকা পেলে মাফ করে দিতে। কিন্তু তিনি নারাজ হওয়ায় রাগ করে বলি, যার কাছে টাকা পান তাঁর কাছে নেন। এরপর রাসেনা ও তাঁর স্বামী মায়ের কবর খুঁড়তে যান।’

সাবিনা বেগম আরও বলেন, ‘তাঁরা টাকা পাবেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। অথচ তাঁরা আমার মায়ের কবর থেকে লাশ বের করতে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়েছে। এলাকার মানুষেরা কবরস্থানে গিয়ে তা দেখেছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে থানাহাজতে আটক রাসেনা বেগম বলেন, ‘ছয় মাস আগে শাহেদার ছেলে সহিদার রহমানের জামিন করার সময় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন শাহেদা। আমি ৫০ হাজার টাকা গরু বিক্রি করে আর ৭০ হাজার টাকা ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে দিয়েছি। টাকা না দিয়ে এখন আমার নামে তারা বদনাম ছড়াচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে সরেজমিন গিয়ে কবরের মাটি সরানো অবস্থায় পেয়েছি। সেখানে শত শত উৎসুক লোকজন জড়ো হয়। রাশেনাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ